আকাক্ষা
.......................শ্রী
সবিতার আর মা হওয়া হোলো না,
দো তলার জানলা দিয়ে রোজ দ্যাখে সে,
পাশের বাড়ির খোকণকে লাবনী
কতো ভালোবেসে স্হাণ করায়।
পরন্ত্য দুপুরে খোকণ কেঁদে উঠলে,
সবিতার অন্তরের ব্যাকুলতার বাঁধ ভাঙে।
নিজেকে অনেক কষ্ট দিয়েছে সে
এখণ সে আর নিজেকে কষ্ট দেয় না,
চারপাশের সমাজ সেই দায়িত্বটা নিয়েছে।
শাশুড়ী বাঁজা বলে দুর্ব্যবহার করে রোজ,
আর সেদিন সকালে সবিতা তারাতারি উঠে
স্হাণ করেছিলো,তুঁতে রঙের নতুন শাড়ীটা পরেছিলো
পাড়ার আর পাঁচটা বৌয়ের মতো মোড়ের
মাথার
মণসা মন্দিরে গেছিলো পূজোর জোগাড়
করতে,
তাপসী ফল কাটার বঁটিটা ওর হাত থেকে
ছিণিয়ে নিলো
এক রাশ কান্না বুক ফেটে বেরোচ্ছিলো,
কিন্তু সবিতা হাঁসি মুখেই চলে
এসেছিলো ।
রাতে সমিরের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে
চেয়েছিলো সে
কিন্তু বংশের উত্তরাধিকারের জণ্য সে
আবার বিয়ের
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো সেদিনই,
সবিতা আর কিছু বলতে পারেনি ।
নিজেকে দোষী ভেবে চুপ রয়েছিলো সে,
সারারাত চোখের জলে বালিশ ভিজিয়ে
নিশ্চুপ আর্তনাদগুলো দুঃসহ হয়ে
উঠেছিলো ।
বারান্দায় রাখা গাছটাকে খুব আদর করে
জল দিয়ে নিজের দুঃখ অপমান গুলোকে
শেষ একবার ভেবে,ঘুমের ওষুধগুলো
সবকটা খেয়ে নিলো সবিতা ।
ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে যেতে লাগলো
খোকণের কান্না,পাখির কিচিরমিচির
এক অদ্ভুত শান্তি ছড়িয়ে পড়লো সারা
শরীরে,
মুক্তি পেয়ে গেলো সবিতা এই অসহণীয়
সমাজ থেকে ।।
Comments
Post a Comment