ওয়েডিং অ্যালবাম ডিজাইন টিউটোরিয়াল
আজকের ব্লগে আমরা জানবো কি করে ফটোশপে অ্যালবাম পিএসডি টেমপ্লেট তৈরি করতে হয়। বেশি কিছু টুল এই কাজে আমি ইউজ করব না কিন্তু যেটুকু দরকার সেটুকুই আপনাদেরকে বলবো। কিভাবে একটি নতুন টেমপ্লেট তৈরি করে সেটিকে সেভ করবো সেই সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রথমে ফটোশপ ওপেন করবেন তারপরে একদম ওপরে লেফট সাইডে ফাইল এ গিয়ে নিউ তে ক্লিক করবেন।নিউ তে ক্লিক করার পর একটি নতুন উইন্ডো ওপেন হবে। উইন্ডোটির ডান দিকে উপরে নামকরণ করতে হবে।
এটি যে সিট টি আপনি বানাতে চলেছেন তার নাম। অ্যালবাম এর শুরুতে কভার পেজ থাকে তো আমরা সেটাই নামকরণ করলাম । এরপর নিচে একটি বক্স দেখতে পাবেন যেখানে আপনাকে লিখতে হবে 36 তার নীচের বক্সে লিখবেন 12, ঠিক পাশের বক্স টাতে ইঞ্চিস সিলেক্ট করবেন। আমি আমরা যে কভার পেজ টি বানাতে চলেছি সেটার মাপ হল লম্বায় 12 ইঞ্চি আর চওড়ায় 36 ইঞ্চি। বেশিরভাগ ফটো অ্যালবামগুলি এই সাইজের ই হয়। আরো বিভিন্ন রকমের সাইজের অ্যালবাম তৈরি হয় যেমন 12 x15, 9x12 , 12x12 ইত্যাদি, ইত্যাদি।

এই মাপ গুলি অ্যালবামটি বন্ধ অবস্থার মাপ, আর অ্যালবামগুলি খোলা হলে এই মাপ গুলি হবে 12x30 ,9x24,12x24 পর্যায়ক্রমে। যেহেতু আমরা এলবামটির দুটো পেজ একসাথে ডিজাইন করছি, মানে একটি সিট ডিজাইন করছি, তাই আমাদেরকে এই নিচের মাপ গুলোই মনে রাখতে হবে।
এরপরে ওরিয়েন্টেশনে পোর্ট্রেট ল্যান্ডস্কেপ দুটি রয়েছে তো সেখানে আমাদেরকে ল্যান্ডস্কেপ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। তারপর রেসোলিউশন রেসোলিউশন 300 করতে হবে। বেশিরভাগ প্রিন্টিং ল্যাব এই রেসলিউশন এই কাজ করে তো আপনি আপনার প্রিন্টিং কম্পানি থেকে এটি জেনে সেটি বসাতে পারেন। পাশের বক্স টা তে পিক্সএল পার ইঞ্চ সিলেক্ট করবেন। এর নিচে কালার মোড অপশন থাকবে সেখানে আরজিবি ও সিএমওয়াইকে এই দুটো অপশন থাকবে আপনার ল্যাব যে মোড প্রিন্টিং করে সেটি সিলেক্ট করে নেবেন পাশে বিট 8 ওটাকে ওমনি রেখে দেবেন এরপরে ক্রিয়েট বাটনে প্রেস করবেন। এরপরে আপনার ফটোশপের ওয়ার্ক স্পেস এর আর্ট বোর্ড তৈরি হয়ে যাবে।
সাদা যে অংশটা আপনি দেখতে পাবেন সেটি আপনার ডিজাইনের স্পেস সেখানেই আপনাকে ডিজাইন টা সম্পন্ন করতে হবে। এবার আপনাকে যেটা করতে হবে সেটি হল এই স্পেস এর চারপাশে ব্লিডিং লাইন তৈরি করা। যেটি মোটামুটি 0.03 ইঞ্চি থেকে 0.05 ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
আপনি ctrl+R টিপলে আপনার ওয়ার্কস্পেসে একটি উপর এবং নিজ দিয়ে স্কেল আসবে তাতে ক্লিক করে টানলেই একটি লাইন চলে আসবে এবং সেটিকে আপনি ওই মাপে চারপাশে সেট করতে পারেন। এটি দেয়ার কারণ হল যাতে আপনার ছবির কোন রকম কোন অংশ প্রিন্টিং এর সময় বাদ না পড়ে যায়। এবার অ্যালবামের জন্য পছন্দ করা আপনার ছবিগুলো থেকে 5 থেকে 6 টি ছবি দিয়ে ভেতরটা ডিজাইন করুন।
ডিজাইন করার আগে ছবিগুলোর কালার কারেকশন করে নিলে সিটটি দেখতে সুন্দর হবে। প্রিন্টিং এ ও খুব ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে। ডিজাইন সম্পন্ন হলে প্রজেক্ট সেভ করুন জেপেগ এবং পিএইচডি দুই ফরমেট এ। যাতে পরবর্তীতে কোনো চেঞ্জ করতে হলে আপনি পেজটির চেঞ্জ করতে পারেন। ডিজাইন করার সময় যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হলো আমাদের ইন্ডিয়ান ওয়েডিং খুব কালারফুল হয় সেক্ষেত্রে যতটা সম্ভব উজ্জ্বল কালার ইউজ করাটাই ভালো হবে এবং ডিজাইন সবসময় সিম্পল এবং মিনিমালিস্টিক রাখার চেষ্টাই ভালো। পরবর্তীতে আমি একটি পেজ নিজে ডিজাইন করে আপনাদেরকে দেখাবো এবং আপনাদের ডিজাইন করা পেজ এর ছবি ও আমাদেরকে পাঠাতে পারেন। আমি চেষ্টা করব যত সম্ভব কম টুল ইউজ করে কি করে আপনাদের জন্য ভালো ভালো টিউটোরিয়াল তৈরি করা যায়। ভালো থাকবেন শুভরাত্রি।
Comments
Post a Comment